অবসরপ্রাপ্ত ৭ কাস্টমস কর্মকর্তাসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা

চট্টগ্রামে অবসরপ্রাপ্ত ৭ কাস্টমস কর্মকর্তাসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে ১৮টি মামলা হয়েছে।দুদকের তিন কর্মকর্তা বাদী হয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে সোমবার এসব মামলা দায়ের করেন। মামলার বাদীরা হলেন দুদক প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শেখ গোলাম মাওলা, সহকারী পরিচালক আফরোজা হক খান ও উপসহকারী পরিচালক সহিদুর রহমান। মামলা দায়েরের বিষয়টি মঙ্গলবার স্বীকার করেন দুদক কর্মকর্তারা।

আসামিদের বিরুদ্ধে সরকারের ২ কোটি ৬৬ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৭ টাকা আত্মসাৎ ও সরকারের রাজস্ব ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়েছে।

আসামি হওয়া ৭ কর্মকর্তা হলেন- মো. শফিউল আলম, হুমায়ুন কবির, প্রাণবন্ধু বিকাশ পাল, মো. নিজামুল হক, সৈয়দ হুমায়ুন আখতার, মোহাম্মদ সফিউল আলম ও মো. সাইফুর রহমান।

২০১০, ২০১১ ও ২০১২ সালে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে প্রতারণা, জালিয়াতি, ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে আমদানি পণ্য খালাস করার সঙ্গে তারা জড়িত। ৭ কাস্টমস কর্মকর্তাই বর্তমানে অবসরে আছেন।

শেখ গোলাম মাওলা বাদী হয়ে দায়ের করা ৩ নম্বর মামলার এজাহারে বলা হয়, ঢাকার এলিফ্যান্ট রোডের পদমিতা সুজ নামে একটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান পাদুকাসামগ্রীর একটি চালান আমদানি করে।

কিন্তু মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে আনা এই চালানে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান কেবল ১ লাখ ৯৯ হাজার ৯৫০ টাকা শুল্ককর পরিশোধ করে।

পরে অডিটকালে দেখা যায়, ওই চালানে পরিশোধযোগ্য শুল্ক হচ্ছে ১২ লাখ ১৯ হাজার ১৭৯ টাকা। সংশ্লিষ্ট শাখার তৎকালীন রাজস্ব কর্মকর্তা প্রাণ বিকাশ পাল আমদানিকারকের সঙ্গে যোগসাজশ করে ঘুষ গ্রহণ তথা পরস্পর লাভবান হয়ে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে সরকারের শুল্ক ফাঁকি দিয়েছেন, যা ক্ষমতার অপব্যবহারপূর্বক অপরাধজনক বিশ্বাস ভঙ্গ এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ কারণে এ মামলায় রাজস্ব কর্মকর্তা, আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট প্রতিনিধিসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক।

মো. সহিদুর রহমানের দায়ের করা ১০ নম্বর মামলার এজাহারে বলা হয়, ঢাকার মকিম কাটরার ব্যবসায়ী মেসার্স জেডআই ইন্টারন্যাশনালের মালিক জহিরুল ইসলাম কম শুল্কের ‘অর্ডিনারি টেসলার’ ঘোষণা দিয়ে বেশি শুল্কের ‘আয়রন প্যাড লক’ নামের একটি পণ্য চালান আমদানি করেন।

এই পণ্য চালানটি মাত্র ৪৮ হাজার ২০২ টাকা শুল্ক পরিশোধ করে কাস্টম হাউস থেকে ছাড় করে নিয়ে যান। কিন্তু পরবর্তী সময়ে দেখা যায়, এই চালানের প্রকৃত শুল্ক ছিল ২৫ লাখ ৬০ হাজার ৪০৯ টাকা। এতে ২৫ লাখ ১২ হাজার ২০৬ টাকা সরকারি রাজস্ব ক্ষতি করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট শাখার তৎকালীন রাজস্ব কর্মকর্তা (আরও) মো. শফিউল আলম ঘুষ গ্রহণ ও জালিয়াতির মাধ্যমে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দিয়ে সরকারের ক্ষতি করেছেন।

দুদক জানায়, ১৮টি পণ্য চালান আমদানির ঘটনায় এভাবে জাল-জালিয়াতি, প্রতারণা, এইচএস কোড পরিবর্তন করে সরকারের ২ কোটি ৬৬ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৭ টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে আত্মসাৎ করা হয়েছে। কাস্টমসের রাজস্ব কর্মকর্তারাই এসব শুল্ক ফাঁকি ও জাল-জালিয়াতিতে প্রধান ভূমিকা পালন করেছেন।

তাই সব মামলাতেই তাদের প্রধান অভিযুক্ত আসামি করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের তদন্ত ও অনুসন্ধান শেষে অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়া ৭ কাস্টমস কর্মকর্তাসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।

১৮ মামলায় অন্য আসামিরা হচ্ছেন- মোহাম্মদ কাসিফ ফোরকান, মোহাম্মদ হারুন শাহ, আবুল হাসনাত সোহাগ, মমিনুল ইসলাম, মির্জা মো. আহসানুজ্জামান, এমএ আলীম, মুসা ভুঁইয়া, মইনুল আলম চৌধুরী প্রকাশ, মইনুল আলম ওরফে সাইফুল চৌধুরী, হাজী ফোরকান আহমেদ, নুরুল আলম, জহিরুল ইসলাম, রুবেল আহমেদ, আইনুল হক, সাহিদুর রহমান, সাইফুল ইসলাম, ফাহাদ আবেদীন সোহান ও জ্যোতির্ময় সাহা।

দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-১ এর উপপরিচালক লুৎফুল কবির চন্দন যুগান্তরকে বলেন, আসামিদের গ্রেফতারের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। শিগগির অভিযান পরিচালনা করা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here