অতিরিক্ত মাদকসেবনে যুবকের মৃত্যু, পেঁয়াজ ক্ষেত থেকে মরদেহ উদ্ধার

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় একটি পেঁয়াজ ক্ষেত থেকে রিজু মিয়া (৩৫) নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১ মার্চ) দুপুরের দিকে গট্টি ইউনিয়নের কসবাগট্টি গ্রামের পেঁয়াজ ক্ষেত থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত রিজু মিয়া কবসাগট্টি গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা বাবলু মিয়ার ছেলে। অতিরিক্ত মাদকসেবনে মৃত্যুর পর ক্ষেতের মধ্যেই তার লাশ পড়ে ছিলো বলে প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ জানায়।

স্বজন ও স্থানীয়রা জানান, বীর মুক্তিযোদ্ধা বাবলু মিয়া চার ছেলে ও এক মেয়ে রেখে মারা যান কয়েক বছর আগে। এরমধ্যে বড় দুই ভাই বিয়ে করে আলাদা সংসার শুরু করেন। আর বোনও বিয়ে করে স্বামীর বাড়িতে চলে যায়। রিজু মিয়া ছোট ভাই মিজু মিয়াকে নিয়ে বাড়িতে একটি টিনের ঘরে বসবাস করতেন। তারা নিজেরাই রান্না করে খেতেন। রিজু মাঝে মাঝে বাসে হেলপারি করতো। সেখান থেকে সে মাদকে আসক্ত হয়ে পড়ে। পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে চিকিৎসাও করানো হলেও মাদকের থাবা থেকে তিনি বেরিয়ে আসতে পারিনি। প্রতিদিন রাতে স্থানীয় কয়েকজন মাদকসেবীকে নিয়ে রিজু মাদক সেবন করতো।

ধারনা করা হচ্ছে অতিরিক্ত মাদক সেবন করার ফলে হার্ট অ্যাটাক করে পেঁয়াজের খেতের মধ্যে মারা গেছে। পরে পুলিশকে খবর দিলে তারা ঘটনাস্থলে এসে লাশ উদ্ধার করে নিয়ে যায়। তবে স্থানীয়দের মধ্যে অনেকে বলছে একটা যুবক লোক কি করে মাঠের মধ্যে একা একা মারা যাবে। সঠিক ভাবে তদন্ত করলে এই মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।

রিজুর ছোট ভাই মিজু মিয়া বলেন, আমরা দুই ভাই একই ঘরে ঘুমাতাম। মাঝে মাঝেই সে মাদক সেবন করতে রাতে ঘর থেকে বের হতো। সোমবার রাত ৯টার দিকে সে ঘর থেকে বের হয়। এরপর রাতে আর বাড়িতে ফেরেনি। মঙ্গলবার সকালে খবর পাই যে আমাদের গ্রামের আলামিন শেখের বাড়ির পাশে একটি পেঁয়াজ খেতে বড় ভাই রিজুর লাশ পড়ে আছে। আমাদের ধারণা সে মাদক সেবন করে বাড়ি ফেরার পথে স্টোক করে মারা গেছে।

সালথা থানার এসআই মো. মারুফ হোসেন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে রিজুর লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। তবে স্থানীয় প্রতিবেশী ও আত্মীয়-স্বজনদের কাছে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে পারলাম যে, রিজু মিয়া নিয়মিত একজন মাদক সেবী ছিলেন। ধারনা করা হচ্ছে অতিরিক্ত মাদক সেবন করার ফলে হার্ট অ্যাটাক করে পেঁয়াজের খেতের মধ্যে মারা গেছে সে। পরে পুলিশকে খবর দিলে তারা ঘটনাস্থলে এসে লাশ উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

রাকিবুল/বার্তাবাজার/এম আই

Leave a Reply

Your email address will not be published.