October 5, 2022

উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার সিরাজগঞ্জ জেলা শাখায় ৭ বছর পর হতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন। সর্বশেষ ২০১৫ সালের ৮ই জানুয়ারি সম্মেলন হয়। এরপর সোমবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজ মাঠে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

সম্মেলনের তারিখ ঘোষণার পর থেকেই প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে নেতাকর্মীদের মধ্যে। আর নতুন কমিটিতে শীর্ষ দুই স্থান পেতে বিভিন্ন পর্যায়ে চলছে পদ প্রত্যাশীদের দৌড়ঝাঁপ। পছন্দের পদ পেতে তদবির করছেন দলের নীতিনির্ধারকদের কাছে। তবে কোন পদ্ধতিতে জেলার সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক নির্ধারণ করা হবে, তা নিয়ে সন্দিহান দলীয় নেতাকর্মীরা। এদিকে সভাপতি-সম্পাদক হতে আগ্রহী প্রার্থীরা দফায়-দফায় বৈঠক করে শক্তি ও জনবল বৃদ্ধির কৌশল নির্ধারণ করছেন।

এ ছাড়া প্রতিদিন কাউন্সিলরদের কাছে যাচ্ছেন পদ প্রত্যাশীরা। কিন্তু সংগঠনটির শীর্ষ দুই নেতৃত্বে কারা আসছেন সেটি কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না। তবে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে ত্যাগী নেতাদের কপাল খুলতে পারে বলে মনে করছেন তৃনমূল।

জানা যায়, নেতৃত্ব নির্বাচনে ভোটের কথা স্পষ্টভাবে বলা থাকলেও ‘বিশেষ ক্ষেত্রে’ সিলেকশন প্রক্রিয়ায় নেতা মনোনীত করার রেওয়াজ রয়েছে। সে ক্ষেত্রে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক মনোনীত করতে ‘ইলেকশন নাকি সিলেকশনে’ নির্ধারণ করা হবে, সে প্রশ্নই এখন সবার মুখে।

আর ওই উত্তর খুঁজতে জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাড. কে এম হোসেন আলী হাসানের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমরা উভয় প্রস্তুতি নিয়েছি। দলের নীতিনির্ধারকরা যে সিদ্ধান্ত নেবেন। সেটাই বাস্তবায়ন করা হবে। সম্মেলনের প্রস্তুতি নিয়ে তিনি বলেন জেলায় উৎসবের আমেজ বইছে। অন্যান্য জেলায় যেভাবে সম্মেলন হয়েছে, আমাদের এখানে সম্মেলন হবে আরও ‘গর্জিয়াস’। সব দিক দিয়ে এ সম্মেলন অনেক চমৎকার হবে।

ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ বলেন, আমরা এরই মধ্যে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। সম্মেলনের জন্য জেলা আওয়ামী লীগের ১২ টি ইউনিট প্রস্তুত রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সম্মেলনে দলের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুর রহমান, খায়রুজ্জামান লিটন, যুগ্ম সম্পাদক ও তথ্য সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানাসহ আরও কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতার উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

তৃনমূল আওয়ামী লীগের ভোটে নির্বাচিত রায়গঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ (হৃদয়) বলেন, প্রতিটি নেতাকর্মীর জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হলো আন্দোলন, সম্মেলন ও নির্বাচন। আর এই সম্মেলনে জেলা আওয়ামী লীগের জন্য সঠিক নেতৃত্ব মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপহার দেবেন বলে তিনি আস্থা রাখেন।

এ সম্মেলনে সভাপতি পদে প্রার্থী হয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাড. কে এম হোসেন আলী হাসান, সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ বিশ্বাস, সহ-সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমান ও অ্যাড. বিমল কুমার দাশ। অপরদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে লড়বেন জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ তালুকদার, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শামসুজ্জামান আলো, তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন ফারুক, কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক ড. জান্নাত আরা তালুকদার হেনরী ও কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের সহ-সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন সুইট।

দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শামছুজ্জামান আলো বলেন, এখানে দলীয় কোনো কোন্দল নেই, আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ। সম্মেলন ঘিরে তাই উৎসবের আমেজও বেশি। সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব আসবে বলে বিশ্বাস করি।

সাবেক ছাত্রনেতা জাকিরুল ইসলাম লিমন বলেন, সামনে জাতীয় নির্বাচন, তাই দলে নতুন নেতৃত্ব প্রয়োজন। এ সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব আসলে দল আরও উজ্জীবিত হবে। আরও কয়েকজন নেতা জানান, জেলা আওয়ামী লীগে দীর্ঘ সময় ভারপ্রাপ্তরা দায়িত্ব পালন করেছে। এখন সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব আসলে জেলা আওয়ামী লীগ আরও এগিয়ে যাবে, আরও শক্তিশালী হবে- সেটিই আমাদের প্রত্যাশা।

নেতাকর্মীরা বলছেন, স্মরণকালের সেরা সম্মেলন হবে সিরাজগঞ্জে। আর নতুনের নেতৃত্বে আরও শক্তিশালী হবে আওয়ামী লীগ-এমনটিই প্রত্যাশা নেতাকর্মীদের।

এদিকে সম্মেলন ঘিরে শহরের মুজিব সড়ক ও দলীয় কার্যালয় রোড ছাড়াও শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মোড়ে নির্মাণ করা হয়েছে তোরণ। একইভাবে বঙ্গবন্ধু সেতু থেকে শহরের প্রবেশ পথে রয়েছে শুভেচ্ছা তোরণ। জেলার সকল সাংসদ নেতারাও সম্মেলন সফল করতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছেন।

মালেক/বার্তাবাজার/এ.আর

Leave a Reply

Your email address will not be published.