October 2, 2022

করোনাভাইরাসের প্রথম ডোজের টিকা প্রদান শেষ হবে আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি। সরকারের এমন ঘোষণার পর সারা দেশের বিভিন্ন টিকা কেন্দ্রে উপচে পড়া ভিড় পরিলক্ষিত হয়েছে। এতটাই ভিড় যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ও হিমসিম খেতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও পুলিশ, ভলান্টিয়ারসহ টিকা নিতে আসা সাধারণ মানুষের আহত হবার ঘটনা ঘটেছে।

ঢাকার সাভার উপজেলায় এরকম ঘটনায় স্বাস্থ্যকর্মী সহ আহত ১০/১২ জনকে হাসপাতালেও ভর্তি হতে হয়। তবে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের বিচক্ষণতায় বর্তমানে টিকা পরিস্থিতি অনেক নিয়ন্ত্রণে জানালেন সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এবং উপজেলা করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সচিব ডা. মোহাম্মদ সায়েমুল হুদা।

বার্তা বাজারকে তিনি জানান, সক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি টিকা নিতে আসায় এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিনই গড়ে এখন ৩৪/৩৫ হাজার ভ্যাক্সিন দেওয়া হচ্ছে যা একটা উপজেলার পক্ষে খুবই কঠিন। সরকারের ঘোষণার পর ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে সাধারণ মানুষ টিকা নিতে আসছেন। এতে আমরা খুবই খুশি। কিন্তু এখানকার পরিস্থিতি মোকাবিলা আমাদের জন্য খুবই কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে। ভিড়ে কেউ কেউ আহত হয়েছেন। তাই ২৬ ফেব্রুয়ারির পরও প্রথম ডোজ টিকা প্রদান করা হবে।

এপ্রসঙ্গে ডা. হুদা বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। সাভারের চাহিদা অনুযায়ী ২৬ ফেব্রুয়ারির পরও প্রথম ডোজ কন্টিনিউ করা হবে। এজন্য সাভারবাসী ও গার্মেন্টস শ্রমিকদের প্রতি আমার অনুরোধ আপনারা অস্থির হবেন না, একটু ধৈর্য্য ধরুন, সকলেই টিকা নিতে পারবেন।

সায়েমুল হুদা বলেন, সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাশে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব হেলথ ম্যানেজমেন্ট (বিআইএইচএম) কেন্দ্রে নারী-পুরুষ সকলের টিকা প্রদান করার জন্য নির্ধারিত করা হয়েছিলো। কিন্তু উপচে পড়া ভিড় সামলাতে এখন মহিলাদের জন্য সাভার অধর চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ে কেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে ভিড় অনেক কমে যাবে। পাশাপাশি আমিনবাজার, কোরিয়া মৈত্রী হাসপাতাল, ইপিজেড, বেপজা, মর্ণিং গ্লোরি স্কুল, ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল, সাভার গার্লস স্কুলে একযোগে টিকা প্রদান করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৭০ হাজার শিক্ষার্থী সহ ১২ লক্ষাধিক টিকা প্রদান করেছি আমরা যা একটি উপজেলার সীমিত জনবল দিয়ে করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য বিষয়।

সাভারে টিকা নিতে এসে আহত হবার ঘটনার বিষয়ে তিনি জানান, সাভারের মতো জনবহুল এলাকায় হঠাৎ হাজার হাজার লোক টিকা নিতে আসায় আমাদের বেগ পেতে হয়েছে। এসময় ভিড় নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় কয়েকজন আহত হন। এখানে উপজেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সকলে সমন্বয় করে টিকা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। আমাদের স্বাস্থ্য কর্মী, ভলান্টিয়ার এবং চিকিৎসকগণও এই সেবা দিতে গিয়ে আনেকেই আহত হয়েছেন। তারপরও তারা এই টিকা কার্যক্রম একদিনও বন্ধ রাখেন নাই। প্রতিদিনই তারা চলমান টিকা কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন। আসলেই তারা অক্লান্ত পরিবর্তন করে যাচ্ছেন। এজন্য যারা টিকা নিতে আসছেন তারা আরেকটু ধৈর্য্য ও সংযম প্রদর্শন করবেন এই অনুরোধ জানাই তাদের প্রতি। সকলেই টিকা পাবেন তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

মোঃ আল মামুন/বার্তাবাজার/মনির

Leave a Reply

Your email address will not be published.