October 6, 2022

নরসিংদীর রায়পুরার মুছাপুরে পূর্বশত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ৫ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আগের দিন হুমকি পরদিন হামলা লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শনিবার ভোরে রবিবার রাতে দুই দিনে উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের গৌরিপুর এলাকায় ও বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগ, স্থানীয় কামাল পাঠানের নেতৃত্বে মোল্লাবাড়ির কাউছার মিয়ার চালের আড়ত, মুনতাজ মিয়ার ফার্নিচারের দোকান, সুমন মোল্লার মুদি দোকান, হারুন মিয়া ও আশিকুর মিয়ার হোটেলে লুট করা হয়। রবিবার ভোর রাতে খোদাবক্স বাড়ির বিল্লাল মিয়ার ঘরের জিনিস পত্র লুটপাট চালায়। এতে বেশ কয়েক লাখ টাকার মালামাল লুট হয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হয়ে যাওয়া ইউপি নির্বাচন ঘিরে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে দ্বন্ধের সৃষ্টি হয়। তখন নৌকার প্রার্থী মো. হোসেন ভুইয়ার সমর্থক মোল্লাবাড়ী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সানাউল্লাহ ভুইয়ার সমর্থক পাঠানবাড়ীর লোকজন। নির্বাচন পূর্ববর্তী ও পরবর্তি সময়ে এরই জের ধরে কয়েক দফায় মোল্লাবাড়ী ও পাঠানবাড়ীর লোকজনের মধ্যে হামলা-ভাংচুরের লুটপাটের ঘটনাও ঘটে। সর্বশেষ ঘটনায় প্রতিপক্ষের দায়ের করা মামলায় মোল্লাবাড়ী কিছু লোকজন জেল হাজতে ও এলাকার বাহিরে অবস্থান করছেন। তাদের ব্যবসা-বানিজ্যগুলো ছেলে-মেয়ে-স্ত্রীরা দেখাশুনা করছেন। এই সুযোগে শনিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) ভোরে পাঠান বাড়ী সমর্থকরা মোল্লা বাড়ী সমর্থক ৫ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে পাঠানবাড়ির কামাল পাঠানের নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জন লোক এসে দোকানে হামলা চালিয়ে লুটপাটের ঘটনা ঘটিয়েছে বলে জানান ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের লোকজন।

ক্ষতিগ্রস্থের শিকার মুদি ব্যবসায়ী সুমন মোল্লার স্ত্রী আসমা বেগম জানান, বিগত দিনের হামলা-ভাংচুরের মামলায় আমার স্বামী কিছুদিন ধরে এলাকার বাহিরে থাকায় আমার ছেলে ফোয়াদ মোল্লা দোকানে বসে। শুক্রবার বিকেলে পাঠান বাড়ীর লোকজন দোকানে এসে হুমকি দিয়ে যায়। শনিবার ভোরে দোকানে হামলা চালিয়ে গ্যাসের সিলিন্ডার, তেলের ড্রাম, ফ্রিজসহ কয়েক লাখ টাকার মালামাল নিয়ে যায়।

হোটেল মালিক আশিকুর রহমানের স্ত্রী সাজেদা বেগম জানান, হোটেলের ভিতর থাকা আটা-ময়দা, চিনির বস্তা, ফ্রিজ, টিভি, খাদ্র সামগ্রী সহ প্রায় ২লাখ টাকার মালামাল লুট হয়।

চাউল ব্যবসায়ী কাওসার মোল্লার মা পিয়ারা বেগম জানান, আমার ছেলের দোকানে ছোটবড় মিলিয়ে অর্ধশতাধিক বস্তা চাউল ছিল। পাঠান বাড়ীর লোকজন সব নিয়ে গেছে।

ফার্নিচার ব্যবসায়ী মুন্তাজ মিয়ার স্ত্রী শিরিনা বেগম জানান, বেশ কয়েকটি রেডিমেট খাট, সুকেট, ওয়ারড্রপ, মিশিনারী যন্ত্রপাতি সব নিয়ে যায় প্রতিপক্ষের লোকজন।

কনফেকশনারী ব্যবসায়ী হারুন মিয়ার স্ত্রী ইয়াসমিন জানান, আমাদের দোকানে থাকা অনেকগুলো কোমলপানীয় সহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যায়।

বিল্লাল মিয়ার ছেলে লিটন জানান, পুলিশি ভয়ে সবাই গ্রাম ছাড়া এই সুযোগে কামাল পাঠানের লোকজন রাতে আমার ঘরে ভাঙচুর চালিয়ে ২-৩ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। গ্রামের সকলের মনে চরম আতংকে দিন যাচ্ছে। লুটের হাত থেকে রক্ষা চাই।

এদিকে মোল্লা বাড়ীর লোকজন আরো জানান যে, অজ্ঞাত নামা মামলা থাকায় পুরুষরা পুলিশি আতঙ্কে বাড়ির বাহিরে থাকতে হয়। এই সুযোগে পাঠান বাড়ীর লোকজন প্রায়রাতেই ককটেল ফুটিয়ে এলাকায় আতংক সৃষ্টি করে রাখে। তারা আমাদের সমর্থকদের প্রায়ই মুঠোফোনে বিভিন্ন ভয়ভীতি প্রদর্শন করে যাচ্ছে। তাই সন্ধার পর আমরা ঘরের বাহিরে বের হতে ভয় পাই। বাড়ী-ঘর পুরুষ শুন্য থাকায় রাতের আধারে বাহিরে থাকা গবাদী পশু, হাস-মুরগীসহ নানা জিনিসপত্র নিয়ে যায়।

এ ব্যাপারে পাঠান বাড়ীর সমর্থক রুবেল মিয়া বলেন, চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে মোল্লা বাড়ীর লোকজন আমাদের বাড়ী-ঘরে হামলা চালিয়ে লুটপাটের ঘটনা ঘটায়। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। আজকের ঘটনার সাথে আমাদের কোন সম্পৃক্ততা নেই। তারা নিজেরাই এ ঘটনা ঘটিয়ে আমাদের উপর দায় চাপানোর চেষ্ঠা চালাচ্ছে।

রায়পুরা থানার উপপরিদর্শক রাকিবুল ইসলাম বলেন,খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরির্দশনে আসি। ক্ষতিগ্রস্থদের অভিযোগ শুনেছি।

এ ব্যাপারে রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো আজিজুর রহমান জানান,অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

রেজাউল করিম/বার্তাবাজার/এম আই

Leave a Reply

Your email address will not be published.