September 28, 2022

যার শুরু আছে তার শেষও আছে। তেমনি চলমান রাশিয়া-ইউক্রেনের মধ্যে যে যুদ্ধ শুরু হয়েছে সেটাও শেষ হবে। তবে, এই যুদ্ধ যে ভালোভাবে শেষ হবে না এটা অনুমেয়ই। যুদ্ধে হতাহতদের স্বজনদের আহাজারি, বাক-বিতণ্ডা, কূটনৈতিক দৌড়ঝাঁপ সব মিলিয়ে মানসিকভাবে দুই দেশের মানুষই দিশেহারা হয়ে পড়েছে।

সব শেষে কোন আগামী দিনগুলোতে কোন দিকে যেতে পারে এই যুদ্ধ সেটি নিয়ে বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করেছেন বিশ্লেষকরা। সম্ভাব্য কয়েকটি চিত্র এখানে তুলে ধরা হচ্ছে, তবে, এর কোনোটিই খুব আশাব্যঞ্জক নয়।

সংক্ষিপ্ত যুদ্ধ
সামারিক কর্মকাণ্ড আরো তীব্র করতে পারে রাশিয়া। রকেট হামলার পাশাপাশি কামান হামলো তীব্র করতে পারে রাশিয়া। আকাশ সামরিক ব্যবস্থায় পৃথীবির অন্যতম শক্তিশালী দেশ রাশিয়া। কিন্তু এই যুদ্ধে এখনো পর্যন্ত রাশিয়ার বিমান বাহিনীর তেমন কোনো ভূমিকা দেখা যায়নি। কিন্তু এবার হয়তো আকাশ থেকে মারাত্মক আক্রমণ পরিচালনা করতে পারে। এতে কয়েক দিনের মধ্যে রাজধানী কিয়েভের পতন হয়ে যাবে। এরপর সরকারকে উৎখাত করে সেখানে একটা মস্কোপন্থি পুতুল সরকার বসানো হতে পারে।

দীর্ঘ যুদ্ধ
হয়তো এতোবড় যুদ্ধের জন্য রাশিয়া কিংবা ইউক্রেন কেউই প্রস্তুত ছিলেন না। সেক্ষেত্রে রুশ সৈন্যরা তাদের নেতৃত্বের অদক্ষতা, যুদ্ধের সরঞ্জাম আনা-নেওয়ার সমস্যা, নিম্ন মনোবল— এ রকম নানা কারণে দমে যেতে পারে কিছুটা। আবার ইউক্রেনের সৈন্যদের শক্তিশালী প্রতিরোধে কিয়েভের মতো বড় বড় শহরগুলো দখল করতে বেশি সময় লেগে যেতে পারে রাশিয়ান সৈন্যদের। তখন হয়তো চেচনিয়ার রাজধানী গ্রজনি শহর দখলে নিতে রাশিয়ার দীর্ঘ ও রক্তাক্ত যুদ্ধে যেমন শহরটি প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল। ইউক্রেনেও হয়তো তেমন কিছু হতে পারে।

ইউরোপজুড়ে যুদ্ধ
এ যুদ্ধ শুধু রাশিয়া এবং ইউক্রেনের মধ্যেই হচ্ছে না। সারা বিশ্বউ এই যুদ্ধকে হুমকি হিসেবে দেখছে। তাই হিসাব-নিকাশে একটু গোলমাল হলেই সেটি ছড়িয়ে পড়তে পারে অন্যান্য দেশের মাঝেও। আবার এমনও হতে পারে রুশ প্রেসিডেন্ট হয়তো রাশিয়ার সাবেক সোভিয়েত সাম্রাজ্যের আরো কিছু অংশ পুনর্দখল করার চেষ্টা করতে পারেন। পুতিন হয়তো মলদোভা এবং জর্জিয়ায় রুশ সৈন্য পাঠাতে পারেন।

পুতিনও ক্ষমতাচ্যুত হতে পারেন
ইউক্রেন সামরিক অভিযান শুরু করার সময় পুতিন বলেছিলেন, ‘আমরা যে কোনো পরিণতির জন্য তৈরি।’ কিন্তু সেই পরিণতি এমনও হতে পারে রাশিয়ার মসনদ থেকে স্বয়ং পুতিনকেই সরিয়ে দেওয়া হলো। এমন প্রশ্নও অমুলক নয়। লন্ডনের কিংস কলেজের ওয়ার স্টাডিজের অধ্যাপক স্যার লরেন্স ফ্রিডম্যান এ সপ্তাহেই এক নিবন্ধে লিখেছেন, ‘এটা এখন খুবই সম্ভব যে কিয়েভ এবং মস্কো, যে কোনোখানেই ক্ষমতার পটপরিবর্তন হতে পারে।

এ কথার বলার কারণ সম্ভবত এমন হতে পারে, বিপর্যয়কর এক যুদ্ধে নেমেছেন পুতিন। যুদ্ধে মারা যেতে পারে হাজার হাজার রুশ সৈন্য। পশ্চিমা বিশ্ব থেকে দেওয়া অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ডেকে আনতে পারে দুর্ভোগ। জনসমর্থন হারাতে পারেন পুতিন। সামরিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক এলিট শ্রেণি বিপক্ষে চলে যেতে পারে পুতিনের। একটা রক্তাক্ত প্রাসাদ অভ্যুত্থানের মাধ্যমে উৎখাত হতে পারেন পুতিন।

এগুলো কিছু সম্ভাবনা। এই সম্ভাবনার সবগুলোই যে ঘটবে এমনটা না। এগুলোর কোনো একটি-দুটি মিলে ভিন্ন কোনো পরিণতিও ডেকে আনতে পারে। তবে, এই যুদ্ধের পর বাকি বিশ্বের সম্পর্ক বদলে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। খবর বিবিসির

বার্তাবাজর/ না. সা.

Leave a Reply

Your email address will not be published.