September 26, 2022

মালয়েশিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশী প্রবাসীদের মধ্যে আশঙ্কাজনক ভাবে বাড়ছে। মালয়েশিয়া থেকে ফেরত আসা অধিকাংশ মরদেহই হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু যা অসুস্থতা কিংবা দূর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর চেয়েও বেশি। সুস্থ সবল একজন কর্মজীবী প্রবাসী হঠাৎ করেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে এটাই এখন সবচেয়ে বড় রহস্য প্রবাসীদের কাছে। ঠিক কি কারনে প্রবাসীরা হার্ট অ্যাটাক করছে এর কারণ উদঘাটন করা গেলে এর প্রতিকারও হয়তো সম্ভব ছিল। এর কোন সঠিক তদন্ত না হওয়ায় হার্ট অ্যাটাকের মৃত্যু প্রবাসীদের কাছে এখনোও পুরোপুরি রহস্যই থেকে যাচ্ছে।

সাধারণত চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে, যখন হৃদপিণ্ডের কোনো শিরায় রক্ত জমাট বেঁধে হৃদপিণ্ডে রক্ত প্রবাহে বাঁধার সৃষ্টি করে তখন হার্ট অ্যাটাক বা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে বয়স, উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা, উচ্চ মাত্রায় খারাপ কোলেস্টোরল, অতিরিক্ত মোটা, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, মদ্যপান, মানসিক ও পারিবারিক চাপ এবং শারীরিক পরিশ্রম না করাই মূলত হার্ট অ্যাটাকের কারণ। কিন্তু উপরোক্ত উপসর্গের মধ্যে মালয়েশিয়া প্রবাসীরা ঠিক কোন উপসর্গে বেশিরভাগ হার্ট অ্যাটাক করেন তা জানতে হলে যথাযথ তদন্ত করে এর প্রতিরোধ প্রয়োজন। তবে সংশ্লিষ্ট যারা আছেন তারা লাশ দেশে ফেরার কাজেই ব্যস্ত থাকছেন। বছরে ঠিক কত প্রবাসী হার্ট করে মৃত্যুর লাশ দেশে পাঠানো হচ্ছে এর পরিসংখ্যানও কারো কাছে নেই। দূতাবাসে লাশ পাঠানোর দায়িত্বে যারা রয়েছেন তারা এই পরিসংখ্যান জানাতে রাজি হয়নি।

হার্ট অ্যাটাকের বিষয়টি স্বাভাবিকের পর্যায়ে থাকলে এ নিয়ে প্রশ্ন উঠতো না। বিষয়টি স্বাভাবিক পর্যায়ে না থাকায় প্রবাসীদের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ উৎকন্ঠা। তার কারণ হচ্ছে বিদেশের মাটিতে একজন কর্মজীবী প্রবাসীর মৃত্যু খুবই দূর্ভাগ্যজনক। এতে করে সংশ্লিষ্ট প্রবাসীর পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের উপর জগদ্দল পাথরের মত বোঝা চাপে। প্রত্যাক্ষ ও পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্থ এবং ভোগান্তির শিকার হন উভয় পক্ষই।

মালয়েশিয়াস্থ বাংলাদেশী গণমাধ্যম কর্মী থেকে শুরু করে প্রবাসী কমিউনিটির নের্তৃবৃন্দরা মনে করেন, চাকুরী ও বেতনের অনিশ্চিয়তা, পারিবারিক ও মানসিক চাপ, কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ, বাসস্থান, মালিকপক্ষের আচড়ণ, পুলিশী হয়রানি, ঋণের চাপ, খাদ্যভ্যাস ইত্যাদি নানা কারণে ডিপ্রেশনে পড়ে প্রবাসীরা হার্ট অ্যাটাকের শিকার হতে পারেন। মালয়েশিয়ার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেভাবে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর খবর পাওয়া যাচ্ছে তাতে হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধে সচেতনতা এখনই জরুরি।

মালয়েশিয়াস্থ বাংলাদেশ কমিউনিটির নেতা মোঃ জহিরুল ইসলাম জহির বলেন, আমি বিগত ২ বছরের করোনাকালে বিভিন্ন ভাবে সহযোগিতা করে প্রায় ৭০ টি মরদেহ দেশে পাঠিয়েছি যার বেশিরভাগ ই হার্ট এট্যাকে মৃত্যু। হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যুর কারণ হিসেবে তিনি ধারনা করে বলেন, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকায় মালয়েশিয়ায় গিয়ে খরচ তুলতে না পারা, বিভিন্ন কারণে অবৈধ হয়ে যাওয়া, বৈধ হতে গিয়ে দালালের প্রতারনার শিকার হওয়া, বেতন ও কাজের অনিশ্চিয়তা, পারিবারিক ডিপ্রেশন, করোনা পেনডেমিকের ক্ষতিকর প্রভাব ইত্যাদি বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত প্রবাসীরা এই নিরব ঘাতক এর শিকার হচ্ছেন। তবে এর থেকে বেড়িয়ে আসতে হলে পবাসীদের জীবম মান উন্নয়ন সহ তাদের কে সচেতন করতে হবে এর জন্য সঠিক কারণ চিহ্নিত করে এর সমাধানে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে।

আশরাফুল/বার্তাবাজার/মনির

Leave a Reply

Your email address will not be published.