October 1, 2022

হার্ট অ্যাটাকে মারা যাওয়া মালয়েশিয়া প্রবাসী আঃ কাইয়ুম (৫৫) নামে ১ বাংলাদেশির মরদেহ মালয়েশিয়ার একটি হাসপাতালের মর্গে পড়ে আছে। এই অবস্থায় মরদেহটি দেশে ফেরত পাঠাতে হলে যে লাখ টাকার প্রয়োজন সে অর্থ পরিবারের পক্ষে যোগান দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

মরদেহ দেশে ফেরত পাঠাতে সরকারি অনুদানের ব্যবস্থা করাসহ কাইয়ুমের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম দেশ বিদেশের সকল বিত্তবানদের আর্থিক সহযোগিতা কামনা করেছেন।

মৃত আঃ কাইয়ুম ২০০৮ সালের কলিং ভিসায় চাকুরী নিয়ে মালয়েশিয়ায় যান। সে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার মাঝিকারা গ্রামের বাসিন্দা এবং তার পিতার নাম মোঃ কফিল উদ্দিন। আঃ কাইয়ুম গত শনিবার দূপুর ১২ টায় অসুস্থ হওয়ার পর হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা গেছেন। তিনি কুয়ালালামপুর দামানসারা উতমা এলাকায় বসবাস করতেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরের মালয়েশিয়া প্রবাসী মোঃ রাসেল শিকদার প্রতিবেদককে বেলন, আমি কাইয়ুমের হার্ট অ্যাটাকের খবর পেয়ে তার বাসায় গিয়ে হাসপাতালে ভর্তির পর সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা গেছেন।

তিনি আরও বলেন, এর আগের দিন করোনা পরীক্ষা করা হলে তার রেজাল্ট নেগেটিভ আসে।

কাইয়ুমের স্ত্রী ও ২ মেয়ে সন্তান রয়েছে। মালয়েশিয়া চাকুরী করে বিভিন্ন কারণে প্রতারিত হয়েও তিনি আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারেননি। এমনকি কি দেশের বাড়িতে নিজের কোন ভিটার জায়গা বা জমি নেই। ভিসা করতে না পারায় মারা যাওয়ার সময়ের তার বৈধ ভিসা ছিল না। এজন্য তার মরদেহটি দেশে পাঠাতে দীর্ঘ একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যেতে হবে। মালয়েশিয়ায় তার নিকট কোন আত্মীয় না থাকায় যাবতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্নকরণে এগিয়ে এসেছে ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলা এসোসিয়েশন ও মালয়েশিয়া প্রবাসীবৃন্দ।

কাইয়ুমের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম কাঁদতে কাঁদতে বলেন, আমার স্বামী মৃত্যুর পর আমি এখন খুবই অসহায়। ১২-১৩ বছর প্রবাসে থেকেও নিজের থাকার বাড়িটিও করতে পারেনি। সে বিএ পাশ ছিল এবং ভারী কোন পরিশ্রমের কাজ করতে পারতো না। আমার কোনো ছেলে নেই এখন ২ মেয়ে নিয়ে আমি কোথায় যাব কি করবো? কাইয়ুমের একসময় জায়গা জমি সবই ছিল এখন কিছ ই নেই। আমি আমার বাপের বাড়িতে থাকি। কাইয়ুমের এখনও ৭-৮ লাখ টাকার ঋন আছে এগুলো কিভাবে পরিশোধ করবো চোখে মুখে অন্ধকার দেখছি। তাই সকলের কাছে আন্তরিক সহযোগিতা চাই।

এবিষয়ে মালয়েশিয়াস্থ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা এসোসিয়েশন এর সভাপতি মোঃ নাজমুল ইসলাম বাবুল বলেন, আসলে একসময় কাইয়ুমের আর্থিক অবস্থায় ভাল ছিলো। বিভিন্ন কারণে তার আর্থিক অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। বর্তমানে তার পরিবারের অবস্থা খুবই দরিদ্র। তাই আমাদের সংগঠনের সদস্যসহ সকল প্রবাসীর কাছে অর্থ সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

আমরা টাকা সংগ্রহ শুরু করেছি যদি কোন হৃদয়বান ব্যক্তি আর্থিক সাহায্য করতে চান তাহলে আমার এই হোয়াট’স অ্যাপে যোগাযোগ করার জন্য বলা হলো- 0060 12-310 0472

আশরাফুল/বার্তাবাজার/এ.আর

Leave a Reply

Your email address will not be published.