October 3, 2022

বেগুনী রঙের বাঁধাকপি দেখতে সুন্দর। ভিতরে বেগুনী রঙ ও স্বাদে কিছুটা মিষ্টি হওয়ায় এর চাহিদাও বেশি। এরই মধ্যে বাজারে বিক্রি শুরু করেছেন। ব্যাপক লাভবান হওয়ার আশা করছেন তিনি।

বেগুনী রঙের বাঁধাকপি দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে লোকজন আসছেন কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার আদিত্যপাশা গ্রামের কৃষক মোঃ আল আমিনের জমিতে। আল আমিন গত বছরের নভেম্বরের শেষের দিকে এর চাষ শুরু করেন। ৮০-৯০ দিনে কপিগুলো পরিপক্ব হয়ে বিক্রির উপযোগী হয়।

কৃষক আল আমিন বলেন, প্রথমবারের মতো রঙিন বাঁধাকপির চাষ করেছি। ফলন বেশ ভালো হয়েছে। ৩০ শতক জমিতে ১৬ শতাধিক কপি হয়েছে। এতে খরচ হয়েছে মাত্র ১৫ হাজার টাকা। বাজারে প্রতিটি কপি ৩৫ টাকা দরে পাইকারি বিক্রি করছি। এতে অন্তত ৫৫ হাজার টাকার কপি বিক্রি হবে।

তিনি আরও বলেন, সাধারণ কপির চেয়ে অনেক বেশি লাভজনক। লোকজন রঙিন জাতের কপি কিনতে বেশ আগ্রহী। অল্প টাকা খরচ করে আমি বেশ লাভ পেয়েছি। আগামীতে আরও বেশি জমিতে এ জাতের কপির চাষ করব।

পাকুন্দিয়া বাজারের সবজি বিক্রেতা মোঃ কদ্দুস মিয়া জানান, প্রতিটি রঙ্গিন কপি ৩৫ টাকা দরে কিনে বিক্রয় করছি ৪০ থেকে ৪৫ টাকা দরে। দেখতে সুন্দর হওয়ায় খুব সহজেই বিক্রি হচ্ছে।

আংগিয়াদী ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ হামিমুল হক সোহাগ জানান, সব সময় কৃষকদের কাছে নতুন কিছু বা উচ্চমূল্যের ফসল পৌঁছে দেয়ার চেষ্টা থাকে। যার মাধ্যমে কৃষক লাভবান হতে পারেন। এরই ধারাবাহিকতায় উদ্বুদ্ধকরণের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো রঙিন বাঁধাকপির চাষ হয়েছে। প্রথমবার চাষ করেই সফলতা পেয়েছেন কৃষক আল আমিন। অন্য কৃষকরাও এ জাতের কপি চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, এর আগে এ এলাকায় বেগুনি বাঁধাকপি দেখা যায়নি। বীজ বপনের অল্প সময়েই সারি সারি বাঁধাকপি জমিতে ছেয়ে যায়। ওপরের পাতা ছিঁড়ে ফেললেই বের হয়ে আসে বেগুনি রঙের বাঁধাকপি। সবুজের ভিতরে বেগুনি এ উপজেলায় প্রথম। বেগুনি বাঁধাকপি দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে লোকজন আসছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, এ জাতের কপির বাজারে বেশ চাহিদা থাকায় আগামীতে এ উপজেলায় এর চাষ বাড়বে বলে তিনি আশা করছেন। অধিক পুষ্টিকর লালিমা জাতের বেগুনি বাঁধাকপি ফলনেও ভালো, দামেও ভালো। দেখতে সুন্দর ও স্বাদে হালকা মিষ্টি। সালাদ হিসেবেও খাওয়ার উপযোগী। এটি চাষে অতিরিক্ত যত্নের প্রয়োজন হয় না।

স্বাভাবিক পরিবেশে কয়েক দিন সংরক্ষণ করা যায়। বাজারে এই রঙিন বাঁধাকপির চাহিদাও বেশি। যা সাধারণ কপির চেয়ে অনেক বেশি লাভ। দাম ও ফলন ভালো হওয়ায় স্থানীয় কৃষকরাও এ জাতের কপি চাষে ব্যাপক আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

হুমায়ুন/বার্তাবাজার/এ.আর

Leave a Reply

Your email address will not be published.