October 3, 2022

প্রবাসি স্ত্রী টাকা পাঠাতে দেরি করায় দুই সন্তানের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালান এক পাষণ্ড পিতা। নির্যাতনের সেই ভিডিও নিজেই ধারণ করে পাঠান স্ত্রীর কাছে। টাকা না পেলে এক ছেলে ও মেয়েকে গলায় ফাঁস লাগিয়ে হত্যার হুমকিও দেন তিনি। সেই ঘটনার ধারণকৃত একাধিক ভিডিও ফুটেজ আজ বুধবার মো. ফাহিম নামে এক ফেসবুক আইডি থেকে ছাড়ার পর তা মহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। নেটিজেনরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও জড়িত পিতার শাস্তি দাবি জানিয়েছে। এ ঘটনাটি ঘটেছে নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার চান্দেরকান্দি ইউনিয়নের শ্রীনিধি এলাকায়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অভিযুক্ত পিতা ট্রাক্টর চালকের নাম আল আমিন। তিনি উপজেলার চান্দেরকান্দি ইউনিয়নের শ্রীনিধি বাজার এলাকার মৃত সাহবুদ্দিন মিয়ার ছেলে। সাত বছর আগে একই ইউনিয়নের ধাইরেরপাড় এলাকার মোজাম্মেল হকের মেয়ে সাকিনা বেগমকে ভালবেসে বিয়ে করেন তিনি। জানা গেছে, সাকিনার এটি ছিল তৃতীয় বিয়ে। দ্বিতীয় স্বামীর সংসারে জন্ম মুন্না নামে এক পুত্রকে নিয়ে আল আমিনকে বিয়ে করেন তিনি। পরে ওই দম্পতির মুন্নি নামে এক কন্যার জন্ম হয়।

দ্ইু সন্তানের মধ্যে মুন্নার বয়স সাত ও মুন্নির বয়স পাঁচ বছর। ছয় মাস আগে স্বামী সন্তান রেখে গৃহকর্মী ভিসায় সৌদিতে পাড়ি জামান সাকিনা। এরপর থেকে ওই দুই সন্তান আল আমিনের সঙ্গেই থাকছিলেন। গেল মাসের বেতনের টাকা পাঠাতে দেরি হওয়ায় দুই সন্তান ওপর অমানবিক নির্যাতন চালায় আল আমিন। তারপর সেই ভিডিও নিজেই ধারণ করে পাঠান স্ত্রীকে। পরে ওই ভিডিওগুলো প্রবাসি সাকিনা তার মামা মো. ফাহিমের কাছে পাঠায়। ফাহিম তার ফেসবুক আইডি থেকে ভিডিওগুলো ছাড়েন। পরে মুহূর্তেই ভাইরাল হয় শিশু নির্যাতনের ভিডিও এবং নিন্দার ঝড় ওঠে।

ভাইরাল হওয়া ভিডিতে দেখা গেছে, ঘুমন্ত শিশু মুন্না ও মুন্নিকে জাগিয়ে তুলে প্রথমে চরথাপ্পর দেয় তাদের বাবা আল আমিন। এক পর্যায়ে ওই দুই শিশুকে মেঝেতে ফেলে পা দিয়ে গলায় চেপে ধরেন তিনি। এতে শিশু দুটি কান্নায় ভেঙে পড়ে ও প্রচন্ড বমি করতে থাকে। অপর আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, ছেলে মুন্নাকে মাদরাসা থেকে বাড়ি নিয়ে ফেরার পথে আল আমিন বলে, দেখিস পুতেরে (পুত্র) মাসরাসা থেকে নিতাছি। দুইডারে গলায় ধরি দিয়া ফাঁসি লাগাইয়া মারমু আমি। তুই দেখি (স্ত্রীকে)। ওই সময় তিনি স্ত্রীকে অকথ্য ভাষায় গালি দেন আল আমিন।

এ ঘটনার পর অভিযুক্ত আল আমিন দুই সন্তানকে নিয়ে আত্মগোপনে আছেন বলে জানান তার স্বজনরা। মুঠোফোনে সাকিনা বেগম কালের কন্ঠকে জানান, টাকা পাঠাতে সামান্য দেরি হলেই সন্তানদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিল আল আমিন। পরে সেই নির্যাতনের ভিডিও স্ত্রীর কাছে পাঠাই সে। এতদিন সবকিছু মুখবুঝে সহ্য করে আসছিলেন বলে জানান সাকিনা।

তিনি আরো জানান, অভাবের নাড়নায় ও সন্তানদের উজ্জ¦ল ভষিতের কথা চিন্তা করে প্রবাসে এসেছি। প্রতি মাসে ২০ হাজার টাকা করে স্বামীর কাছে পাঠাই। এই মাসে টাকা পাঠাতে দেরি হওয়ায় সন্তানদের মারধর করেন তিনি। এ ঘটনায় স্বামীর শাস্তি দাবি জানিয়েছেন প্রবাসি সাকিনা। আল আমিনের মা জাহান্নারা বেগম বলে, প্রবাসি স্ত্রী টাকা না পাঠানোর কারণেই সন্তানদের চরথাপ্পর দিয়েছে। পরে নাতিদের মারধরের ঘটনায় ছেলেকে শাসন করেছেন বলে জানান তিনি।

চান্দেরকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মেজবাহ উদ্দিন খন্দকার মিতুল জানান, পরিবারটির সঙ্গে কথা বলে জেনেছি, ওই শিশুদের মা প্রবাসে থাকেন। তিনি নাকি নিয়মিত টাকা পাঠাতেন না। পরে টাকা আদায়ের জন্য ওই দুই শিশুর নির্যাতের ভিডিও স্ত্রীকে পাঠিয়ে ভয়ভীত দেখাতো আল আমিন। এটি একটি নিন্দনীয় কাজ। অভিযুক্ত আল আমিনের শাস্তি দাবি জানান তিনি।

রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুর রহমান বলে, খবর পেয়ে সেখানে পুলিশ পাঠিয়েছি। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে পেলেই ধরা হবে। সেই সাথে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এই ঘটনায় শিশুদের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত কোন অভিযোগ পাননি বলে জানান তিনি।

রেজাউল/বার্তাবাজার/এম.এম

Leave a Reply

Your email address will not be published.