September 26, 2022

স্বামী কুদরত আলীকে (৩৮) অন্য নারীর প্রতি আসক্ত বলে সন্দেহ করতেন তাঁর স্ত্রী টপি বেগম (৩০)। এ নিয়ে দাম্পত্য জীবনে দীর্ঘদিন ধরে চলছিল কলহ। গতকাল শনিবার হঠাৎ রেগে গিয়ে কুদরত আলী টপির ডান কানে থাপ্পর মারেন। সঙ্গে সঙ্গে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন টপি। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি।

শনিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাত আটটার দিকে নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার জামুদ এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। অভিযুক্ত কুদরত আলী ওই গ্রামের দেওয়ান আলীর ছেলে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১০ বছর আগে কুদরত আলী একই উপজেলার ডেউটুকোন মেঘাপাড়া গ্রামের আবদুল কাশেমের মেয়ে টপি বেগমকে বিয়ে করেন। তাঁদের দাম্পত্য জীবনে তিনটি সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকে কুদরত আলী তাঁর স্ত্রীর কাছে যৌতুকের জন্য টাকা দাবি করে আসছিল। বিভিন্ন সময়ে টপি তাঁর বাবা ও ভাইদের কাছ থেকে প্রায় চার লাখ টাকা এনে দেন। কুদরত আলী অন্য নারীদের প্রতি আসক্ত এবং ওই টাকা তিনি তাদের প্রতি পেছনে খরচ করেন বলে টপি তাঁর স্বামীকে সন্দেহ করতেন।

সম্প্রতি কুদরত আলী টপির কাছে আরও দুই লাখ টাকা চান কুদরত আলী। কিন্তু টপি টাকা দিতে অস্বীকার করায় তিনি তাকে মরধর করে কুমিল্লায় চলে যান এবং সেখানে একটি কারখানায় কাজ নেন। টপি সন্দেহ করেন কুদরত আলী সেখানে অন্য এক নারীকে বিয়ে করেছেন। গত শুক্রবার তিনি তাঁর বাবার বাড়ির লোকজন নিয়ে কুমিল্লায় গিয়ে কুদরত আলীকে জামুদ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসেন। গতকাল শনিবার রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হলে কুদরত আলী রেগে তাঁর স্ত্রীকে ঘরের পিলারের সঙ্গে প্রথমে মাথায় আঘাত করেন। পরে ডান কানে জোরে থাপ্পর মারেন। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান টপি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই রাতেই কুদরত আলীকে আটক করে।

পরে আজ রোববার সকালে নিহতের বড় ভাই কাজল মিয়া বাদী হয়ে পাঁচজনকে আসামি করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় কুদরত আলীকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে বিকেলে আদালতে নেওয়া হয়। পরে সেখানে তিনি বিচারকের কাছে হত্যার ঘটনায় নিজেকে জড়িয়ে ১৬৪ ধারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেন।

পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিবিরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘গ্রেপ্তার হওয়া কুদরত আলী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’

রাজেশ গৌড়/বার্তাবাজার/এম আই

Leave a Reply

Your email address will not be published.