October 2, 2022

অবেহলা, অযত্ন আর নিয়মিত তদারকির অভাবে ঐতিহ্য হারাতে বসেছে রাতারাতি পাথর দিয়ে নির্মাণ করা ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার প্রাচীন গোরকই আশ্রম,দুর্গা ও শিব মন্দির। ঐতিহ্য হারাতে বসলেও এর কদর বাড়ে শুধু ফাল্গুন মাসের আমাবশ্যায়। আর সেই মন্দিরের সপ্তাহব্যাপী আয়োজিত মেলায় ঢল নামে হাজারো মানুষের।

এ বছরে ২ মার্চ বুধবার মেলা শুরু হয়ে ৮ মার্চ শেষ হবে। মেলার শুরুতেই বিভিন্ন জেলার মানুষের ঢল নেমেছিল। বলছেন,দীর্ঘদিন ধরে দেখছি এখানে প্রতিবছর মেলা হয়, তবে গোরক্ষরাথ মন্দিরের তেমন উন্নয়ন হয় না।

উপজেলা শহর থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরে নেকমরদ ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের গোরকই গ্রামে অবস্থিত এ প্রাচীন মন্দিরটি। গোরক্ষনাথ নামের সাথে কূপটির নাম যুক্ত হয়ে গোরক্ষকূপ থেকে গোরকই নামটি এসেছে বলে ধারণা করা হয়। গোরক্ষনাথের মহিমা প্রচারে নাথ সাহিত্যের কারণে বাংলা সাহিত্যে গোরক্ষনাথ নামটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। গোরক্ষনাথ এ অঞ্চলের অধিবাসী ছিলেন না। তিনি যে ভ্রমনকারী সিদ্ধপুরুষ সন্ন্যাসী ছিলেন এ ধারণাকে ইতিহাস সমর্থন করেন।

স্থানীয়দের মাঝে মন্দিরটি সম্পর্কে রূপকথাও প্রচলিত আছে,মন্দিরের দেখাশুনা গোরক্ষনাথ ঠাকুর করলেও মন্দির তিনি নির্মাণ করেননি, রাতারাতি দেবতারা পাথর দিয়ে মন্দিরটি নির্মাণ করেন বলে স্থানীয়দের ধারণা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, মন্দিরটি ছাড়াও এখানে রয়েছে আশ্রম,৩টি শিবমন্দির এবং ১টি কালি মন্দির। গোরক্ষনাথ মন্দির চত্বরের ঠিক মাঝখানে অবস্থিত। তার পিছনেই সেই আকর্ষনীয় কুপ। পাথরের তৈরি একটি চৌবাচ্চার মাঝে ওই কুপের অবস্থান। কুপটি বড় বড় কালো পাথরের খণ্ডদ্বারা নির্মিত।

এই এলাকার শিক্ষক তরণী বর্ম্মন জানান,হাজার হাজার নারী পুরুষ স্নান করার পরও এ কুপের পানি এক ইঞ্চিও কমে না। যা কুপের বৈশিষ্ট্য মনে করে পূর্ণ্যাথীরা।

মেলা পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অনন্ত কুমার জানান,এ মন্দিরের নিজস্ব মালিকানায় প্রায় ২৫ বিঘা জমি, একটি আম ও জাম বাগান এবং একটি বড় পুকুর রয়েছে। যা প্রায় দেড় লাখ টাকায় ইজারা দেয়া হয়। মেলায় প্রায় লক্ষাধিক টাকা আয় আসে। দুটো আয় দিয়ে মন্দিরের নানা উন্নয়ন করা হয়।

মেলা পরিচালনা কমিটির সভাপতি কাশিনাথ রায় জানায়, প্রতি বছর ফাগুন মাসের আমাবশ্যায় এই মন্দিরে ৭ দিনব্যাপী মেলার আয়োজন করে উপজেলা প্রশাসন ও মন্দির পরিচালনা কমিটি। মেলার সময় এ কুপের পানিতে স্নান করতে আসে দেশের বিভিন্ন জেলার ভক্তরা। বিভিন্ন মানত করে পরিবার পরিজনসহ তাঁরা আসেন এই মন্দিরে। পূজা ও স্নান শেষে আবার পুনরায় ফিরে যান বাড়িতে। তবে অনেকের আশা পূরণ হলে মন্দিরে এসে পুনরায় পূজা এবং মানত করা ছাগল,হাস, মুরগিসহ নানা জিনিসপত্র দিয়ে যান।

সবুজ/বার্তা বাজার/এম.এম

Leave a Reply

Your email address will not be published.