October 5, 2022

পাঁচ ওয়াক্ত মাইকে দেয়া হতো সুমধুর আযান, আশপাশ থেকে ছুটে আসতো ধর্মপ্রান মুসল্লি। জামাতের সাথে আদায় হতো নামাজ। প্রতিনিয়ত সুন্দর নিয়মের মধ্য দিয়ে চলছিলো মজজিদটি। দাতা ও কমিটির সামান্য বিষয়ে বিরোধের জেরে মসজিদটিতে এখন ঝুলছে তালা।

বিষয়টি ফেসবুকে ভাইরাল হলে সমালোচনার ঝড় বয়ে যাচ্ছে পুরো এলাকা জুড়ে।

বলছি নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার ৮নং সোনাদিয়া ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের হাজী হাফেজ আহম্মদের বাড়ির দরজার বায়তুল ফালাহ্ মসজিটির কথা। উপজেলার অন্য ইউনিয়ন থেকে আসা কয়েকজন যুবক নামাজের সময় মসজিদটিতে নামাজ পড়তে গেলে মসজিদটি বন্ধ পায়। পরে তারা এলাকার লোকজন থেকে জানতে পেরে ছবি তুলে ফেসবুকে ছেড়ে দিলে ছবিটি মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়।

এলাকাবাসী জানায়, ২০০১ সালে মরহুম আলতাফ হোসেন পাঞ্জেগানা মসজিদটি চালু করেন। কয়েক বছর পর মুসল্লি বাড়তে থাকলে জায়গা সংকুলান হওয়ায় বর্তমান মোতাওয়াল্লী মো: বেলায়েত হোসেনকে জমি দেয়ার প্রস্তাব করলে তিনি ৪ কড়া জমি প্রদান করেন। কিন্তু তিনি জমিটি মসজিদের নামে কোন কাগজ পত্র করে দেননি। তার মধ্য থেকে তিনি কিছু জমি বিক্রি করে দেন।

কমিটি মসজিদের সৌন্দর্য বন্দনের কাজ করার জন্য লিখিত ডকুমেন্ট চায়। মোতাওয়াল্লী বারবার দিবে বলে আশ্বাস দিয়েও এখন পর্যন্ত কোন কাগজ দেয়নি।

কমিটি উদ্যেগে প্রায় ৯২হাজার টাকা ব্যায়ে একটি টয়লেট, ৩২হাজার টাকা ব্যয়ে একটি ঘাটলার কাজ সম্পন্ন করেছে। এ বছর মসজিদ পাকা করার উদ্যেগ ছিলো কিন্তু মোতওয়াল্লী জমির লিখিত ডকুমেন্টস না দেয়াতে কমিটি লোকজন
কাজটি ধরতে পারেনি।

কমিটির লোকজন মসজিদটি ভালোভাবে পরিচালনা করলেও এসকল বিষয় নিয়ে একটা বিরোধের সৃষ্টি হয়। সর্বশেষ ইমাম নিয়োগকে কেন্দ্র করে বিরোধটি বড় আকার ধারণ করে। বিষয়টি সমাধানের জন্য মোতাওয়াল্লী এবং কমিটির লোকজন কয়েকবার বসেও সমাধান করতে পারেনি। পরে কমিটির লোকজন অপারগতা প্রকাশ করে মসজিদটি তালা মেরে দেয়।

মসজিদের বর্তমান মোতাওয়াল্লী মো: বেলায়েত হোসেন বলেন, অনেক আগে থেকে এখানে একটা পাঞ্জেগানা মসজিদ ছিলো। পরে জায়গা সংকুল হওয়ায় এলাকাবাসীর প্রস্তাবে আমি মসজিদে ৪ কড়া জমি দান করেছি এবং মাটি ভরাটসহ মসজিদ উন্নয়নে বিভিন্ন সময় নগদ অর্থ ব্যয় করেছি।

মসজিদটি ভালো ভাবে চলছিলো। ইমাম নিয়োগকে কেন্দ্র করে কমিটির কয়েকজন মসজিদের আজানসহ সকল কার্যক্রম বন্ধ করে তালা লাগিয়ে দিয়েছে।

মসজিদ বন্ধের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কমিটির সভাপতি খোকন মিয়া বলেন, আমরা কমিটির লোকজন মসজিদ বন্ধ করিনি মোতাওয়াল্লী আমাদেরকে দিয়ে বন্ধ করিয়েছে। আমরা মসজিদের অনেক উন্নয়ন করেছি। মসজিদ চলাতে গিয়ে অনেক টাকা ধার দেনা হয়েছি। আমরা এখন অপারগ হয়ে পড়েছি।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান জানান, বিষয়টি অবগত হয়েছি। এটি একটি ন্যাক্কারজনক ঘটনা, আমি বর্তমানে ঢাকায় আছি। দু‌‘একদিনের মধ্যে এলাকায় এসে উভয় পক্ষের সাথে বসে বিষয়টি সমাধান করে দেবো।

জিল্লুর/বার্তাবাজার/এ.আর

Leave a Reply

Your email address will not be published.