October 1, 2022

আফজাল হোসেন চাঁদ :

এক পা দিয়ে জীবনযুদ্ধ জয় করা যশোরের ঝিকরগাছার উপজেলার ১১নং বাঁকড়া ইউনিয়নের আলীপুর গ্রামের উজ্জ্বল নক্ষত্র অদম্য মেধাবী তামান্না নূরার বাড়িতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে মিষ্টি ও ফুলেল শুভেচ্ছা দিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ডাঃ কাজী নাজিব হাসান। যশোর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে বাঁকড়া ডিগ্রী কলেজ থেকে ২০২১সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল ১৩ ফেব্রুয়ারী প্রকাশিত হলে সে জিপিএ-৫ পেয়েছে। এর আগে সে পিইসি, জেএসসি এবং এসএসসি পরীক্ষাও জিপিএ-৫ পেয়েছে। যার করণে মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে বাড়িতে গিয়ে সাফল্য অর্জনের পথ আরো দীর্ঘ করতে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান সহকারী কমিশনার (ভূমি) ডাঃ কাজী নাজিব হাসান। তিনি আরও বলেন, ১৪ ফেব্রুয়ারী সন্ধ্যায় মোবাইল ফেনের মাধ্যমে অদম্য মেধাবী তামান্না নূরার সাথে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কথা বলে তার খোঁজ খবর নেন এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাকে বলেছেন, তুমি এগিয়ে যাও, তোমার পড়াশুনা চালিয়ে যেতে যা যা করার আমি করবো। আমি তোমার সাথে আছি।
তামান্না নূরা বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমার পাশে আছে আমার আর কোন চিন্তা নেই। আমার আশেপাশের লোকজন মাঝে মধ্যেই বলতো, আমি পারব না। কিন্তু আমি কখনো ভাবিনি যে, আমি পরবোনা। আমি আমার সর্ব কাজের ক্ষেত্রে আমার নিজের উপর আত্মবিশ্বাসী। নিজের সর্বোচ্চ ইচ্ছা শক্তিকে কাজে লাগিয়ে আমি সাফল্যের দাঁড়প্রান্তে হাজির হয়ে দেখিয়ে দিতে চাই। যারা আমাকে নিয়ে ভেবেছিলেন আমি পারবো না, ইনশাআল্লাহ তাদের ধারণা পরিবর্তন করতে আমি বিসিএস ক্যাডার হতে পারবো।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এএসএম জিল্লুর রশিদ বলেন, তামান্না নূরার ইচ্ছা কথা শুনে আমি খুবই আনন্দিত। তবে তার সব সময় চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। নিজের ভুল-ত্রুটি ও দুর্বলতা খুঁজে বের করে অনুশীলন করতে হবে। নিজের দুর্বলতা নিজে যতটা বের করা যায়, অন্যরা ততটা পারেন না। আত্মবিশ্বাস থাকাটা জরুরি। আত্মবিশ্বাস থাকতে হবে, আমি পারবই। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বিসিএস ছাড়াও বিকল্প অপশন প্রস্তুত রাখতে হবে। জীবনের জন্য বিসিএস, বিসিএসের জন্য জীবন নয়।
উল্লেখ্য, ২০০৩ সালের ১২ ডিসেম্বর জন্মগত ভাবে দুই হাত ও এক পা বিহীন জন্মগ্রহণ করেন তামান্না নূরা। তবে তার আছে শুধুমাত্র একটি পা। এই একটি পা দিয়েই পিইসি, জেএসসি এবং এসএসসি, এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখেছে। ছোটবেলা থেকে পড়াশোনার প্রতি অদম্য ইচ্ছাশক্তির কারণে হার মানতে বসেছে সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা। কেউ মমতায়, কেউ বা করুণার চোখে তাকায় তার দিকে। তবুও সেই সব তাকানো কে পিছে ফেলে তার দৃষ্টি অনেক সুদূরপ্রসারী। পড়াশুনার পাশাপাশি এক পায়ে খুবই সুন্দর ছবি আঁকে। তার স্বপ্নপূরণের মূল হাতিয়ার হল একটি মাত্র পা। তার সাফল্যের পেছনে রয়েছে বাবা রওশন আলী ও মা খাদিজা পারভীনের একান্ত প্রচেষ্টা এবং তার নিজের অদম্য ইচ্ছাশক্তি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.