September 26, 2022

গ্রাম-গঞ্জে রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে কৃষিকাজ থেকে শুরু করে সুউচ্চ অট্টালিকা নির্মাণে কঠোর পরিশ্রম করে আসছেন বাংলার নারীরা। সাম্যের গান – আমার চোখে পুরুষ রমণী কোন ভেদাভেদ নাই। কবি নজরুলের এই অমর বাণী সমাজের তৃণমূলে এখনো পৌছাতে পারেনি। ডিগ্রীধারী শিক্ষিত মেয়েরা সমাজের বিভিন্ন জায়গায় সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদে মেধা ও শ্রম দিয়ে সাহসিকতার সঙ্গে চাকরি করে আসতেছেন।

কিন্তু গ্রামীন বাংলার শ্রমিক নারীরা সর্বশক্তি দিয়ে পুরুষের সাথে কাঁধে কাঁধ, হাতে হাত মিলিয়ে সমান তালে কাজ করে আসছেন সর্বত্র। গ্রামীণ নারী আর
শহরের নারী পার্থক্যটা এখানেই, শহরের নারীরা আত্মসম্মান পেলেও গ্রামীণ শ্রমিক নারীরা আজো বিভিন্নভাবে অবহেলিত। অট্টালিকা শহরের নারীরা তাদের ন্যায্য প্রাপ্য বুঝে নিলেও গ্রামীণ নারীরা ন্যায্য অধিকার থেকে এখনো বঞ্চিত। নিজের বাসা বাড়ির কাজ করে স্বামীর স্বীকৃতি তো মিলেই না, পান না কোন দৈনিক মজুরীও। উল্টো শুনতে হয় পরিবারের কাজ থেকে নানান ধরনের কথা। গ্রাম-বাংলার নারী শ্রমিকদের ইতিহাস এক অবিচ্ছেদ্য আলোক বিহীন রাতের গল্প। কর্মক্ষেত্রে নারী শ্রমিকরা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হন অনেক সময় পুরুষ শ্রমিক মালিকদের কাছ থেকে।

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় বাংলাবান্ধা, সিপাইপাড়া, সর্দারপাড়া, বুড়াবুড়ি, রনচন্ডি এলাকায় পাথর ভাঙ্গার মেশিনে শত শত নারী শ্রমিক কাজ করেন। কয়েকজন নারী শ্রমিক সকিনা, মালেকা, রুপালী ও রাণীদের সাথে কথা বলে তাদের করুণ আর্তনাদের কথা জানা গেল। পুরুষের সাথে সমান তালে কাজ করলেও বেতনের কাছে বৈষম্যে শিকার। পুরুষদের পাথর ভাঙ্গা মেশিনে দৈনিক মুজুরি ৪০০ টাকা আর মহিলাদের ৩৬০ টাকা।

তারা বলেন, অধিকার বঞ্চিত হয়ে কাজ করে গেলেও আমাদের কষ্ট দেখার কেউ নাই। তাদের দাবী অনেক কাজই পুরুষ শ্রমিকদের চাইতে বেশি করে থাকেন। অথব মুজুরী সমান নই। ওই নারী শ্রমিকরা পুরুষের সমান মুজুরি পাওয়া জন্য প্রশাসনে মহলের কাছে আকুতি জানান।

এ বিষয়ে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা বলেন, নারীরা কৃষির অগ্রদূত। নারীরা কৃষিকাজের পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ব্যপক ভূমিকা রেখেছে।

আমিন/বার্তাবাজার/এম আই

Leave a Reply

Your email address will not be published.