September 26, 2022

বাংলা বর্ষপঞ্জিতে শীতকাল শেষ হলেও, শীতের আমেজ এখনো কমেনি উত্তরের সীমান্তবর্তী জেলা কুড়িগ্রামে। গত কয়েকদিনে জেলায় তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও সন্ধ্যা গড়ালে তা কমে আসছে। ফলে শীতের তীব্রতা খুব বেশি না থাকলেও শীতের ঠান্ডার প্রকোপের কারণে বিপাকে পড়েছেন কুড়িগ্রামের বোরো ধান আবাদকারী চাষীরা । ভোরের দিকে শীতের প্রকোপ কিছুটা বেশি থাকায় ও কুয়াশা পড়ার কারণে অধিকাংশ ক্ষেতের বোরো ধানের বীজতলা গুলো নষ্ট হয়ে গেছে ।

অন্যদিকে সকালে ঠান্ডা আর হিমেল হাওয়ার কারণে বীজতলার চারা রোপণে শ্রমিক সংকটে ভুগছেন চাষীরা । সকালের রোদ উঠলে দেরি করে কাজে আসছেন শ্রমিকরা। মাঘ মাস পেরুলেই এখনো সময়মত অধিকাংশ জমিতে বীজ তলা রোপন করতে পারেন নি অনেক কৃষক । কৃষকরা বলছেন ঠান্ডার কারণে বীজতলা রোপনে মিলছে না শ্রমিক ।

সকালে সরেজমিনে এমনি চিত্র দেখা গেছে কুড়িগ্রামের রাজারহাটে। রাজারহাটের ছিনাই ইউনিয়নের কৃষক বাদল চন্দ্র রায়,তিনি ভোরের আকাশ কে বলেন, ‘মাঘ মাস শ্যাষ(শেষ), এল্যাও(এখনো) ঠান্ডা আছে । বিচন(চারা) গুল্যা এক সপ্তাহ হয় গাড়ছি(রোপন) এখন দেখি সাদা সাদা হইছে ঠান্ডাতে ,এই জন্য বিচন(চারা) গাড়তে(রোপন) সময় লাগছে ।’

পাশের ক্ষেতের আরেক কৃষক বিদেশী রায় বলেন, ‘ঠান্ডার কারণে ক্ষেতে চারা রোপন করার মানুষ পাচ্ছি না,ঠান্ডার জন্য কেউ কাজ করতে আসতে চায় না। নিজেরাই রোপন করছি। এতে সময় বেশি লাগছে।’

জমিতে কাজ করতে আসা শ্রমিক রশিদুল ইসলাম বলেন, ‘সকালে ঠান্ডা বাতাস থাকে ,জমিতে কাজ করতে সকাল-সন্ধা খুব কষ্ট হয় ।’

আরেক শ্রমিক কার্তিক দাস বলেন, ‘মিস্ত্রি কাজে দেয় আমাদের ২৫০ টাকা । আর এই কৃষি কাজে আমাদের মজুরি দেয় ২০০ টাকা ,এতে কাজ করতে অসুবিধা হয়, তাছাড়া এই ঠান্ডাত কাজ করতে একটু অসুবিধা হয়ে যায়।’

জেলায় এবার ১ লাখ ১৫ হাজার ৫৫৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে বলে জানান

কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো.আব্দুর রশিদ। তিনি বলেন, ‘কুড়িগ্রামে বোরো আবাদের কার্যক্রম কিছুটা ব্যাহত হয়েছে । গত বছরের তুলনায় আমরা একটু সামান্য পিছিয়ে আছি । তবে তাপমাত্রা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে,এতে করে আগামী মাসেও আমাদের বোরো রোপনের সুযোগ আছে। কাজেই আমাদের লক্ষ্য মাত্রা অর্জনে কোন প্রভাব ফেলবে না।’

সুজন/বার্তাবাজার/এ.আর

Leave a Reply

Your email address will not be published.