ওই দিনটি আফগানিস্তানে শেষ দিন বুঝতেই পারিনি: আশরাফ গনি

গত অগাস্টে তালেবান কর্তৃক আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল দখলের ঠিক আগে দেশটির তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি হঠাৎ করেই পালিয়ে যাওয়ার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তিনি সেই মুহূর্তের বর্ণনা দিয়েছেন বিবিসি রেডিও ফোর’স টুডে অনুষ্ঠানে।

বৃহস্পতিবারের (৩০ ডিসেম্বর) এই অনুষ্ঠানে গনি তার পালিয়ে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যায় বলেছেন, কাবুলকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতেই তিনি এই কাজ করেছিলেন।

গনি জানান, কাবুল ছেড়ে পালাবেন কিনা সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য মাত্র ২ মিনিট সময় হাতে ছিল। কাবুল ছাড়ার আগ পর্যন্ত কোথায় যাচ্ছেন তা তিনি জানতেন না। এমনকী তালেবানের কাবুল দখলের দিন ১৫ আগস্টে ঘুম থেকে উঠেও তিনি বিন্দুমাত্র বুঝতে পারেননি যে, এটাই আফগানিস্তানে তার শেষ দিন হতে যাচ্ছে।

বিবিসি রেডিও ফোর’স টুডে প্রোগামে অতীতের সেই দিনটির ঘটনা স্মরণ করে সাবেক এই আফগান প্রেসিডেন্ট বলেন, দিনের শুরুতে তালেবান যোদ্ধারা কাবুলে প্রবেশ না করতে রাজি হয়েছিল। কিন্তু ঘণ্টা দুয়েক পরই তাদের অবস্থান বদলে যায়। তালেবানের দুটি আলাদা দল দুই দিক থেকে কাবুল ঘিরে ফেলছিল। এর মধ্যে বড় ধরনের সংঘর্ষ বেধে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি ছিল। যাতে ৫০ লাখ অধিবাসীর এই শহর ধ্বংস হয়ে যাওয়া এবং মানুষজনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারতো।

তালেবান একদিনে আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করেনি বলে মনে করেন গনি। কিন্তু অনেকেই বলছেন, ১৫ আগস্ট গনি পালিয়ে যাওয়ার ফলে একটি চুক্তি বাতিল হয়ে গেছে, যে চুক্তিটি প্রায় হয়ে এসেছিল এবং যা থাকলে ক্ষমতা হস্তান্তর আরও সুশৃঙ্খলভাবে হতে পারত।

অন্যদিকে, তালেবানের ক্ষমতায় আসাটা অনেকটা নিশ্চিতই ছিল। কিন্তু যে মানুষটি আমৃত্যু লড়ে যাওয়ার কথা বারবার বলে এসেছিলেন, তার হঠাৎ চলে যাওয়ায় যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে তাতেই সবকিছু আরও বেশি তালগোল পাকিয়ে গেছে।

তবে ১৫ আগস্ট আশরাফ গানি পালিয়ে গিয়ে যা করেছেন, তার জন্য যতটা না মানুষ তাকে দায়ী করেছে তার চেয়েও বেশি দায়ী করেছে আরও আগেই তিনি সব কাজ না করে যাওয়ার জন্য।

পালানোর সময় বিপুল পরিমাণ অর্থ নিয়েছেন-এমন অভিযোগ অস্বীকার করে সাবেক এই আফগান প্রেসিডেন্ট এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক তদন্ত আহ্বান করেছেন এবং বলেছেন, এর মধ্য দিয়ে তার নামের কালিমা মুছে যাবে।

গানি কাবুল ছাড়ার দিনই তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করে। তারপর থেকেই দেশটি মানবিক ও অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তালেবান শাসনক্ষমতায় আসার পর দেশটিতে আন্তর্জাতিক সমর্থন কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে।

কাবুল পতনের তিনমাস হতে চলল, গানি এখন বলছেন, কিছু কিছু জিনিসের দায় তিনি মাথা পেতেই নেবেন। আর তা হচ্ছে, যে সব কারণে কাবুলের পতন ঘটল এবং আফগানিস্তানের আন্তর্জাতিক অংশীদারদের বিশ্বাস করার মতো বিষয়গুলো।

তিনি বলেন, আমার ক্যারিয়ার ধ্বংস করা হয়েছে। আমার মূল্যবোধ ধুলিস্যাৎ করা হয়েছে, আমাকে বলির পাঁঠা বানানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.