সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২২

আসিফ কাজল, ঝিনাইদহঃ
ঋন গ্রহন না করেও ঝিনাইদহের কৃষি ব্যাংক হলিধানী শাখায় ঋনগ্রস্থ কৃষক শফিকুল। প্রতি মাসেই ব্যাংক কর্মকর্তারা তার বাড়িতে যাচ্ছেন আদায় নোটিশ নিয়ে। সর্বশেষ তাকে লাল নোটিশ দিয়ে সতর্ক করা হয়েছে। দ্রুত ৯৫ হাজার ৭০০ টাকা পরিশোধ না করলে আদালতে মামলা করা হবে। ব্যাংকের লাল নোটিশ পেয়ে কৃষক শফিকুলের চক্ষু চড়ক গাছে। তিনি কোনদিন ব্যাংকের বারান্দায় যাননি। নেননি কোন কৃষি ঋন। কি ভাবে কারা তার নামে ঋন তুলে পকেটস্থ করেছেন এ নিয়ে শফিকুল পড়েছেন মহাবিপদে। কৃষক শফিকুল ঝিনাইদহ সদর উপজেলার সাধুহাটী ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর গ্রামের মোজাম্মেল হকের ছেলে। প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, ২০১৫ সালের নভেম্বর মাসে কৃষক শফিকুলের নামে ঝিনাইদহের হলিধানী কৃষি ব্যাংক শাখা থেকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ ইস্যু হয়। যার ফলিও নং ৪৫৮ (১৬৫)। ঋন গ্রহনের ৭ বছর পর ২০২২ সালের পহেলা মার্চ ঋন পরিশোধের নোটিশ পান। তবে ব্যাংকের নোটিশটি ২০২১ সালের ১৮ জানুয়ারি পোষ্ট করা হলেও ১০ কিলোমিটারের রাস্তা মোহাম্মদপুরে গ্রামে পৌছাতে প্রায় ১৪ মাস। নোটিশের ভাষা পড়ে কৃষক হতভম্ব হয়ে যান। নোটিশে উলে।লখ করা হয় নোটিশ প্রাপ্তির ৭ দিনের মধ্যে ঋন পরিশোধ না করা হলে, বড় ডিজিটাল ব্যানারে আপনার নাম, ঠিকানা ও ছবি ছাপিয়ে আপনার এলাকার হাট-বাজার,স্কুল-কলেজসহ জনসমাগম হয় এমন স্থানে টানিয়ে রাখা হবে। আপনার সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে ব্যাংকের টাকা আদায়ের জন্য বহুল প্রচারিত পত্রিকায় নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রচার করা হবে। নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রচারের জন্য আপনার এলাকায় মাইকিং করা হবে। এই প্রচারের খরচ বাবদ ৩০ তেকে ৪০ হাজার টাকা আপনাকেই বহন করতে হবে। যা নিলামের মাধ্যমে আপনার জমি বিক্রয় করে আদায় করা হবে। এছাড়া কোর্টে মামলা দায়েরের জন্য ২০ হাজার থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকাও এই ঋণ গ্রহিতাকেই বহন করতে হবে। এই মামলায় কারাগারে গেলে জেল খানার খরচও ঋণ গ্রহিতাকেই বহন করতে হবে। সর্বশেষ জমির মালিকানা স্বত্ত ব্যাংকের নামে রেকর্ড করা হবে। এই নোটিশ পড়ে হার্ট অ্যাটাকের দশা হয় কৃষক শফিকুল ইসলামের। এদিকে ২০১৫ সালের ৫০ হাজার টাকার ঋণ সুদে আসলে ৯৫ হাজার ৭০০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। অভিযোগ পাওয়া গেছে এলাকার একটি দালাল চক্র তৎকালীন ব্যাংক ম্যানেজার প্রণব রঞ্জন বিশ্বাস ও আইও শহিদুল ইসলামের সঙ্গে যোগসাজস করে কৃষক শফিকুলের জাতীয় পরিচয় পত্র ও ছবি জাল করে এই ঋন তুলে আত্মসাৎ করেছে। বাস্তবে শফিকুল ইসলাম স্বাক্ষর করতে পারলেও ব্যাংকের ফাইলে স্বাক্ষরের জায়গায় টিপ সই দেওয়া রয়েছে। ম্যানেজার প্রণব রঞ্জন বিশ্বাস এখন অবসরে রয়েছেন। আর আইও মোঃ শহিদুল ইসলাম বর্তমানে শৈলকুপার ভাটই বাজার কৃষি ব্যাংকের ব্যবস্থাপক হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। শফিকুল ইসালামের বিনা অনুমতিতে তার সকল কাগজপত্র দিয়ে এই ঋণ উত্তোলন করা হয়েছে বলে অভিযোগ। তথ্য নিয়ে জানা গেছে ঋন ফাইলে যার ছবি ব্যবহার করা হয়েছে তার নাম মওলা। তার বাড়ি চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের ভুলটিয়া গ্রামে। হলিধানী কৃষি ব্যাংকের একাধিক কর্মচারী অভিযোগ করেন, সাবেক আইও শহিদুল ইসলাম শত শত ব্যাক্তির নামে ভুয়া ঋন তুলে নিজেই আত্মসাৎ করেছেন। অথচ এখন সার্টিফিকেট মামলার জালে আটকে যাচ্ছেন গ্রামের অতি সাধরণ কৃষক। এ বিষয়ে সাবেক ম্যানেজার প্রণব রঞ্জন বিশ্বাস কথা বলতে রাজি হননি। তবে তৎকালীন আইও ও বর্তমান শৈলকুপার ভাটই বাজার কৃষি ব্যাংকের ব্যবস্থাপক শহিদুল ইসলাম জানান, অনেক দিন আগের কথা। আমি কাগজ পত্র না দেখে কিছুই বলতে পারবো না। হলিধানী কৃষি ব্যাংকের ব্যবস্থাপক হাসমত আলী জানান, কৃষক শফিকুলকে সহায়তার জন্য বিষয়টি সহানুভুতির সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, অহেতুক কোন কৃষক যাতে হয়রানী না হয় সে বিষয়ে আমরা নজর দিচ্ছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.