October 1, 2022

জাটকা রক্ষা ও ইলিশের প্রজননে আগামীকাল পহেলা মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত টানা দুমাস লক্ষ্মীপুরের মেঘনায় সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সময় মাছ ক্রয়-বিক্রয়, মজুদ ও পরিবহনের ওপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। মৎস্য সংরক্ষণ আইন ১৯৫০-এর ১৩ ধারা অনুযায়ী মৎস্য অধিদপ্তর এ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ইলিশ প্রজনন ও জাটকা নিধন প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানে আছে জেলা মৎস্য বিভাগ।

এই উপলক্ষে গতকাল রোববার সকালে লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের আয়োজনে জেলা টাস্কফোর্স কমিটির সভায় জানানো হয় জাটকা রক্ষা ও ইলিশ মাছের বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০০৬ সাল থেকে চাঁদপুরের ষাটনল হতে লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার চর আলেকজান্ডার পর্যন্ত মেঘনা নদীর নিম্ন অববাহিকার ১০০ কিলোমিটার নৌ-সীমাকে ইলিশের অভয়াশ্রম হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এসময় জেলেরা ইলিশ শিকার থেকে বিরত থাকবে। জেলেদের উদ্বুদ্ধ করতে জেলার রামগতি, কমলনগর ও রায়পুরে স্ব স্ব উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তাগন জেলেদের নিয়ে সভা সেমিনার সহ সচেতনামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

লক্ষ্মীপুর জেলা মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, মেঘনা নদীর অভয়াশ্রমে মাছ ধরা বন্ধ রাখার জন্য জেলে পল্লীসহ মাছঘাট এলাকা এবং উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে নানা ধরনের সচেতনতা মূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। লিফলেট, পোস্টার ও মাইকিং করার মাধ্যমে এলাকায় প্রচার-প্রচারণাও চালানো হচ্ছে। এছাড়া মাছ ধরা প্রতিরোধের জন্য মোবাইল কোর্টও পরিচালনার সিন্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে যারা এই আইন অমান্য করবে তাদের বিরুদ্ধে মৎস্য আইনে মামলা ও জরিমানা করা হবে। কারাবরণও করতে হবে অনেককে। তাছাড়া এই দুই মাস নদীতে পাহারা দিতে জেলেদের নিয়ে গঠন করা হবে ফিশ গার্ড।

প্রতিবছর মার্চ ও এপ্রিলে দুই মাস উল্লিখিত অভয়াশ্রমে ইলিশ সহ সব ধরনের মাছ আহরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকে। এসময় ইলিশের অভয়াশ্রম গুলোতে ইলিশসহ সকল প্রকার মাছ ধরা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয় আইন অমান্যকারী কমপক্ষে এক বছর থেকে সর্বোচ্চ ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড অথবা ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

এদিকে সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী নদীর পাড়ের জেলেরা তাদের জাল নৌকা কুলে ভীড়াচ্ছেন। আজ সোমবার রাত ১২ টার পূর্বে নদী থেকে উঠে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছেন জেলেরা।

মেঘনা নদীতে ইলিশ মাছ শিকারী জেলে আব্দুল্লাহ জানান, সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ২ মাস আমরা মাছ ধরবো না। আমরা আইন মেনে মাছ শিকার থেকে বিরত থাকব। তবে আমাদেরকে যে প্রণোদনা দেয়ার কথা সেটা সময় মতো যেন দেয়, তাহলে আমরা খেয়ে পরে বাঁচতে পারবো।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, ইলিশের অভয়াশ্রম নিষিদ্ধ সময়ে প্রশাসন এবং মৎস্য বিভাগ যৌথ অভিযান চালালে সরকারের যে লক্ষ্য উদ্দেশ্য তা সফল হবে। এবং ইলিশের প্রজনন বাড়বে ও জাটকা নিধন প্রতিরোধ হবে। ইলিশের ভরা মৌসুমে পাওয়া যাবে ঝাকে ঝাকে ইলিশ। আর যদি প্রশাসন অবহেলা করে তাহলে সফল হবে না।

এ ব্যাপারে লক্ষ্মীপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ আমিনুল হক জানান, নিষিদ্ধ সময় জেলেদের মাছধরা থেকে বিরত রাখার জন্য প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। ওই সময় বিকল্প কর্মসংস্থার ও পুনর্বাসনের আওতায় জেলায় এ বছর প্রায় ২৫ হাজার জেলেকে খাদ্য সহায়তা দেয়া হবে। নিষিদ্ধ সময়ে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকতে জেলেসহ সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানিয়েছে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ম্যাজিষ্ট্রেট মোহাম্মদ তোহিদুল ইসলাম জানান, ২ মাস মেঘনা মাছ ধরা বন্ধ রাখার ব্যাপারে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আইন ভঙ্গ করে নদীতে জাটকা ইলিশ ধরার চেষ্টা করলে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি মৎস্য বিভাগ, কোস্টগার্ড, নৌ পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সকলে এ ব্যাপারে সতর্ক থাকার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

রাসেল/বার্তাবাজার/এম.এম

Leave a Reply

Your email address will not be published.