September 26, 2022

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে বহুতল ভবনে অগ্নিকান্ডে স্বামী ও ৩ সন্তানের পর এবার মারা গেলেন গৃহবধূ রেখা আক্তার। এর ফলে ওই পরিবারের আর কেউ বেঁচে রইলো না। সোমবার রাত ১১টার দিকে রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আইসিসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান রেখা। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার চাচা শ্বশুর ও উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শরীফ হোসাইন।

গত মঙ্গলবার রাতে উপজেলার আশুগঞ্জ বাজারের আলাই মোল্লা ভবনে অগ্নিকান্ড হয়। এতে স্কুলশিক্ষক মকবুল মিয়া (৪২), তার স্ত্রী রেখা বেগম (৩৫), বড় ছেলে আরিফ হোসেন জয় (১১) ও জুবায়ের হোসেন (৭) অগ্নিদগ্ধ হয়। এছাড়াও মকবুলের স্ত্রী রেখার গর্ভে থাকা ৮ মাসের মেয়ে সন্তানও মৃত্যুবরণ করেছেন। এই ঘটনায় একে একে মারা গেলেন সবাই। রেখাসহ মকবুলের পরিবারের ৫ সদস্যের মৃত্যু ঘটনা নিয়ে এলাকায় চলছে শোকের মাতম।

পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১৩ বছরে আগে জেলার নবীনগরের রেখা বেগমকে বিয়ে করেন আশুগঞ্জ উপজেলার শরীফপুরের সফর মিয়ার ছেলে মকবুল মিয়া। মকবুল ছিলেন সাবেক ইউপি সদস্য ও ইউপি সেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি। পেশায় ছিলেন একজন সহকারী শিক্ষক। বিয়ের পর তাদের সংসারে দুই ছেলে সন্তান জন্ম নেয়। মকবুল দুই ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে উপজেলা সদরে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।

গত মঙ্গলবার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক সাড়ে ১০ টার দিকে হঠাৎ মকবুলের বাসায় বিস্ফোরণের বিকট শব্দ হয়। এতে মকবুল মিয়া, মকবুলের গর্ভবতী স্ত্রী রেখা, বড় ছেলে জয় ও ছোট ছেলে জুবায়ের অগ্নিদগ্ধ হয়। তাদেরকে উদ্ধার করে ঢাকায় নেওয়ার পথে মকবুলের ছোট ছেলে জুবায়ের মারা যায়। ঘটনার পরদিন বুধবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে মকবুল মিয়া মারা যান। স্বামী মারা যাওয়ার একদিন পর গত বৃহস্পতিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীতে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অগ্নিদগ্ধ রেখা একটি মৃত সন্তান প্রসব করেন। গত রোববার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় মকবুলের বড় ছেলে জয়। সর্বশেষ সোমবার রাত ১১টার দিকে নিহত মকবুলের স্ত্রী রেখা বেগম আইসিসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেলেন।

সন্তোষ চন্দ্র/বার্তাবাজার/এম আই

Leave a Reply

Your email address will not be published.